নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা থেকে সেনবাগ অভিমুখী নবনির্মিত ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি এখন চরম ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে অবাধে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে ও ভেঙে চুরমার হয়ে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাস্তাটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু সড়কটি চালুর পর থেকেই কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এটি। গ্রামীণ সড়কে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের আইনি অনুমোদন না থাকলেও প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে আনুমানিক এক হাজার ঘনফুট বা তারও বেশি ধারণক্ষমতার বালুবোঝাই বিশালাকার ডাম্পার ট্রাক।
ভারী ডাম্পার চলাচলের ফলে নতুন নির্মিত এই পিচঢালা সড়কের একাংশ দেবে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে এবং রাস্তার পাশের অংশগুলো ভেঙে পুকুর ও নালায় ধসে পড়ছে। একাধিক স্থানে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত ও খানাখন্দ। ডাম্পারগুলো চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলোবালিতে ছেয়ে যায়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "গ্রামীণ রাস্তার একটি নির্দিষ্ট লোড বা ওজন বহনের ক্ষমতা রয়েছে। অথচ অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব মুনাফার স্বার্থে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে হাজার ফুটের ভারী ডাম্পার চালাচ্ছে। এর ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সরকারি নতুন রাস্তাটি কয়েক মাসের মধ্যেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ল। দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চললেও দেখার যেন কেউ নেই।"
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে বালু পরিবহন ও পরিবহন ডাম্পারগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্ট চক্রটি।
রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি গ্রামীণ এ সড়কে ডাম্পারসহ সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং দায়ী অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।