আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে ফেনীতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, মাদক ও ইভটিজিং বন্ধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক সৈকত চৌধুরী, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা আনসার-ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর চন্দ্র কর, ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তপন কুমার কর, ফেনী পৌর জামায়াতের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম সম্পাদক আজিজ উল্লাহ আহমদী, ফেনী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, জেলা পূজা পরিষদের উপদেষ্টা হিরা লাল চক্রবর্তী, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহদেব চন্দ্র দাস এবং ফেনী পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর দেবনাথ।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি গুজব প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাবও আসে।
বক্তারা বলেন, কোনো পূজামণ্ডপের কমিটি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা পূজার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। পূজার সময় দুষ্কৃতকারীদের ইভটিজিং, মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে মাদক সেবন করে পূজামণ্ডপে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হলে পূজামণ্ডপে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এদিকে বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ঘাটে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এটি সবার উৎসব। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।